ভৈরবী । একতালা ওগো কাঙাল, আমারে কাঙাল করেছ, আরো কি তোমার চাই? ওগো ভিখারি, আমার ভিখারি, চলেছ কি কাতর গান গাই'? প্রতিদিন প্রাতে নব নব ধনে তুষিব তোমারে সাধ ছিল মনে ভিখারি, আমার ভিখারি! হায় পলকে সকলি সঁপেছি চরণে, আর তো কিছুই নাই। ওগো কাঙাল, আমারে কাঙাল করেছ, আরো কি তোমার চাই? আমি আমার বুকের আঁচল ঘেরিয়া তোমারে পরানু বাস, আমি আমার ভুবন শূন্য করেছি তোমার পুরাতে আশ। মম প্রাণমন যৌবন নব করপুটতলে পড়ে আছে তব, ভিখারি, আমার ভিখারি! হায়, আরো যদি চাও, মোরে কিছু দাও, ফিরে আমি দিব তাই। ওগো কাঙাল, আমারে কাঙাল করেছ, আরো কি তোমার চাই?
আমি আমায় করব বড়ো এই তো আমার মায়া-- তোমার আলো রাঙিয়ে দিয়ে ফেলব রঙিন ছায়া। তুমি তোমায় রাখবে দূরে, ডাকবে তারে নানা সুরে, আপনারি বিরহ তোমার আমায় নিল কায়া। বিরহ-গান উঠল বেজে বিশ্বগগনময়। কত রঙের কান্নাহাসি কতই আশা-ভয়। কত যে ঢেউ ওঠে পড়ে, কত স্বপন ভাঙে গড়ে, আমার মাঝে রচিলে যে আপন পরাজয়। এই যে তোমার আড়ালখানি দিলে তুমি ঢাকা, দিবানিশির তুলি দিয়ে হাজার ছবি আঁকা-- এরি মাঝে আপনাকে যে বাঁধা রেখে বসলে সেজে, সোজা কিছু রাখলে না, সব মধুর বাঁকে বাঁকা। আকাশ জুড়ে আজ লেগেছে তোমার আমার মেলা। দূরে কাছে ছড়িয়ে গেছে তোমার আমার খেলা। তোমার আমার গুঞ্জরণে বাতাস মাতে কুঞ্জবনে, তোমার আমার যাওয়া-আসায় কাটে সকল বেলা।